৩রাত ২দিন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বরিশাল

৩রাত ২দিন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন বরিশাল।

দেখতে পারবেন চার্চ, গুঠিয়া মসজিদ, দুর্গা সাগর দিঘি, বিবির পুকুর, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ, ৩০ গোডাউন সহ আরো থাকছে পার্ক।
আর সাথে হবে বর্ষার সময় বরিশাল এর সবথেকে সুন্দর স্থান ভাসমান পেয়ারা বাজার, নৌকা বাজার।

Image may contain: one or more people, tree, outdoor, nature and water

তাহলে শুরু করা যাক

১ম দিনঃ
রাত ৮টায় সদরঘাট। লঞ্চ পারাবত, সুন্দরবন, এডভেঞ্ছার যেকোন লঞ্চে উঠে চলে আসুন ভোর ৪-৪.৩০ এ বরিশাল লঞ্চ ঘাটে।
(আমরা সুন্দরবন ১১ তে গিয়েছি, ডেক ভাড়া ১৫০)
লঞ্চ ঘাটের কাছেই থাকার মত অনেক হোটেল আছে। আপনার যেটা ভাল লাগে উঠে পরুন। (আমরা ছিলাম হোটেল সিকদার, ৪০০)
একটু ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিয়ে বের হয়ে পরুন। আজ শহর দেখা হবে।
সকাল সকাল চার্চ ঘুরে দেখতে পারেন। ক্যাথলিক চার্চ, এশিয়ার ২য় বৃহত্তম চার্চ অক্সফোর্ড মিশন চার্চ (অনুমতি নিয়ে যেতে হবে)। চার্চ ঘুরে ঘাটে এসে খাওয়া দাওয়া করে নিন। তারপর মাহেন্দ্রা করে নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড, ১০ টাকা। এখান থেকে আবার মাহেন্দ্রা করে দুর্গা সাগর দিঘি চলে যান, ২০ টাকা করে নিবে। দিঘি তে এন্ট্রি ২০ করে। দেখতে পারবেন বাংলাদেশ এর সবথেকে বড় দিঘি।

Image may contain: night, sky and outdoor

দিঘি টি গুঠিয়া মসজিদ যাবার রাস্তাই পরে। তাই অনেকেই মসজিদ দেখে দিঘি দেখতে আসে। কিন্তু গুঠিয়া রাতের বেলা তার সুন্দ্রয তুলে ধরে।

তাই আমরা দিঘি ঘুরে হোটেল এ এসে রেস্ট নিয়ে বিবির পুকুর দেখেছি। লঞ্চ ঘাটের কাছেই, মেপ দেখে চলে যতে পারবেন।
রাত ৮টায় গুঠিয়া মসজিদ এর লাইটিং বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই ৬টার দিকে বেড় হয়ে যাওয়া ভাল। নতুল্লাবাদ ই আসতে হবে। বাসে/মাহেন্দ্রা তে যাওয়া যায় গুঠিয়া। আমরা বাসে গিয়েছি, ভাড়া ২৫ টাকা। গুঠিয়া এর সুন্দ্রয দেখলে আফছোছ ই হয় যে এত জলদি কেন লাইটিং বন্ধ করে দেয়?
লঞ্চ ঘাটে এসে, আটো তে চড়ে চলে আসুন শের এ বাংলা মেডিকেল কলেজ, ১০ করে। এখান থেকে হেটেই ৩০ গোডাউন চলে যাওয়া যায়। কিছুক্ষন থেকে হোটেল এ ফিরুন।

২য় দিনঃ
সকাল ৮টায় নাস্তা করে, মাহেন্দ্রা করে চলে আসুন নতুল্লাবাদ। গন্তব্য ভাসমান পেয়ারা বাজার। বানারিপারা এর বাস এ চড়ে বসুন, ৪০ করে।
ভাসমান পেয়ারা বাজারে যাবার ২টা পথ। পানি পথ এবং সড়ক পথ। ছোট বেলা থেকে নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ পড়ে এসেছেন মুখে মুখে। কিন্তু এখন তা দেখতে পারবেন যদি আপনি পানি পথে পেয়ারা বাজার ঘুরে আসেন।
তবুও যদি সড়ক পথে যেতে চান তাহলে বানারিপারা থেকে অটো/মাহেন্দ্রা করে আটঘর-কুরিয়ানা গিয়ে ওখান থেকে ভিম্রুলি পেয়ারা বাজার।
আর নদী, খাল-বিল দেখতে হলে বানারিপারা থেকে ট্রলার ভাড়া করে নিন। দরদাম করে-
-বানারিপারা
-আটঘর-কুরিয়ানা
-ভিম্রুলি
-মাহমুদকাঠি
কতক্ষন ঘুরবেন, সময় ঠিক করে ভাড়া করে নিন। ১০০০-১২০০ এর মধ্যে।

কি দেখতে যাচ্ছেন ভিম্রুলি? ৫-৬ ঘণ্টা নৌকার মধ্যে? কি এমন আছে? শুধুই তো পেয়ারা !!!

ভাই আমরা শহুরে বেড়ে ওঠা ছেলে-পুলে। নদী-নালা দেখলেও, ঘুরে দেখা হয় নি। আর এখন বর্ষার মৌসুমে আপনি যে রুপ দেখবেন বরিশাল এর তা কখনো ভুলবেন নাহ এতটুকু বলতে পারি।

ঘুরে আসার পর বানারিপারা>ন্তুল্লাবাদ>লঞ্চ ঘাট
ঢাকার লঞ্চ ৮টা থেকে। যেকন লঞ্চে করে সদরঘাট।

৪ জন এর গ্রুপ হলে জন প্রতি ১৫০০ এর মত খরচ যাবে। যেহেতু বর্ষা, তাই ছাতা অথবা রেইনকোট নিয়ে যাবেন সাথে করে।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

error: Content is protected !!
Tourplacebd.com