সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন? সাবধান!

নাভিদ আরমান সিফাত: ভেবেছিলাম পজিটিভ এবং ভাল লাগার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করব, কিন্তু লিখতে হচ্ছে এমন কিছু যার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

গত ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে সেন্টমার্টিন থেকে জাহাজে টেকনাফ ব্যাক করেই ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনে উঠে পড়ি। ৭.৩০ এর দিকে বাস ছাড়ে টেকনাফ হতে। ১.৫ ঘন্টা ভালই চলছিল বাস। তারপর উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছে (বিজিবি চেক পোস্ট পার হওয়ার ৫ মিনিট পর) এসেই বাধে বিপত্তি।

বাইরে থেকে সজোরে আমাদের বাসে ইট নিক্ষেপ করে কে বা কারা (ধারণা করা হচ্ছে রোহিঙ্গারা)। আমরা ৪ বন্ধু ব্যাক করছিলাম D1,D2,D3,D4 সিটে। আমি বসে ছিলাম D4 এ। জানালার কাঁচ ভেঙ্গে পুরো ইট এসে আমার মাথায় লাগে, আর কাঁচগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়। বেশ কিছু কাঁচ আমার প্যান্টের উপর দিয়ে পায়ের ভেতরে ঢুকে যায়। চোখের ভিতরেও যায় অনেক কাঁচের গুড়া (চশমা থাকার কারণে বেঁচে গেছি অনেকটা)। ঘটনা ঘটার পর আমরা বাস না থামিয়ে দ্রুত ঐ স্থান ত্যাগ করি। পরে রাস্তার পাশের এক দোকান থেকে বাসের সব যাত্রীরা মিলে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।

বাস পরবর্তী চেকপোস্টে থামলে কমপ্লেইন করেও কোনো সমাধান তো দূরের কথা, তারা বলে- বাস থামালেন না কেন! আমরা জিজ্ঞেস করলাম, বাস থামালে যদি ওরা এসে ডাকাতি করত সবাইকে বেঁধে? তখন উনি আর কোনো রিপ্লাই না করে ওনার বসকে ডেকে আনে।

এই ঘটনার ৩-৪ মিনিট আগেও আমার জানালা খোলা ছিল, তখন হয়ত ইট এসে সরাসরি মাথায় লাগত আমার। ভাগ্য সহায় ছিল বলে এই যাত্রায় বেঁচে গেছি। ট্রেনের জানালায় ঢিল মেরে আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা অনেক শুনেছি, কিন্তু বাসে এই প্রথম দেখলাম। শুনলাম ইদানিং প্রায়ই টেকনাফের এই রোডে বিভিন্ন অপকর্ম (চুরি, ছিনতাই এর মতো ঘটনা) বেড়ে গেছে।

আপনারা যারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাবেন, বা যেতে চাচ্ছেন তারা সাবধানে থাকবেন, সতর্ক থাকবেন।

Tourplacebd.com