সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৫৫৫ কেজি ময়লা কুড়িয়ে আনলো ট্র্যাভেলার্স অফ বাংলাদেশ (টিওবি)

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। অপূর্ব সুন্দর এ দ্বীপটির অবস্থা অনেক বছর ধরেই নাজুক। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন দ্বীপের এ অবস্থার জন্য দায়ী। পর্যটনের মৌসুম শুরু হলেই প্রতিদিন পাঁচটি জাহাজে অন্তত ৩,০০০ পর্যটক বেড়াতে যান সেখানে। ছুটির দিনগুলোতে এ সংখ্যা দশহাজার ছাড়িয়ে যায়।

১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টি দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হলে আজ পর্যন্ত এ দ্বীপের টেকসই পর্যটনের জন্য কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বেঁধে দেয়া হয়নি একদিনে সর্বোচ্চ কতজন পর্যটক যেতে পারবে এ ধরণের কোন সংখ্যা।

সিজন শুরু হলে এরকম ভীড় থাকে সেন্টমার্টিনে। ছবি: সবুজ

উল্টো বন্ধ করে দিবে বা রাতে থাকতে দিবেনা এসব হুজুগ গতবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দূর্ভাগ্য আমাদের, এসব পর্যটকের কোন ধারণাই নেই এ দ্বীপের প্রতিবেশ সম্পর্কে। জাহাজে উঠেই গাংচিলকে চিপস ছুঁড়ে দিয়ে সে চিপসের প্যাকেট সমুদ্রে ফেলার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের প্রবাল দ্বীপের যাত্রা।

দ্বীপে পৌঁছে অবাধে যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ময়লার ভাগাড় বানিয়ে ফেলে দ্বীপটাকে। তাদের ধারণাই নেই এ দ্বীপে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে কিছু নেই। দ্বীপের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সেখান প্রবাল পাথর স্মৃতি হিসেবে নিয়ে আসে। কাঁচা পয়সার লোভে স্থানীয়রাই প্রবাল খুঁড়ে নিয়ে এসে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে।

কুড়ানো হচ্ছে ময়লা। ছবি: রকিব হাসান

এর মাঝেও ব্যতিক্রম কিছু মানুষ আছে। দেশে ট্র্যাভেলারদের খোলা উঠোন নামে পরিচিত ফেইসবুক ভিত্তিক এ গ্রুপটির নাম ট্র্যাভেলার্স অফ বাংলাদেশ (সংক্ষেপে টিওবি)। প্রতিবছর জাহাজ চলাচল শুরু হবার আগেই তাঁরা বেরিয়ে পড়েন সেন্টমার্টিন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে।

এবছরও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। গত ৩ অক্টোবর ৩৯ সদস্যের একটি দল নিয়ে সেন্টমার্টিন চলে যান তারা। উদ্দেশ্য দ্বীপের অপচনশীল সকল ময়লা কুড়িয়ে টেকনাফ নিয়ে এসে রিসাইকেলের ব্যবস্থা করা।

অভিয়ানের ব্যানার। ছবি: রকিব হাসান

কোন স্পন্সর নয়, বরং দ্বীপ ও দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে নিজেদের খরচেই এ আয়োজন। পশ্চিম বিচের ড্রিমনাইট রিসোর্টে বিনা খরচে তাঁদেরকে রাখেন জনাব সাজু। এ ছাড়া আয়োজনের ব্যপারেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন বিনয়ী এ মানুষটি। অসাধারণ কিছু মানুষের ভালবাসা আর সহযোগিতায় এবার টানা তৃতীয়বারের মতো এ আয়োজন।

ট্টলারে বোঝাই করা হচ্ছে ময়লার ব্যগ। ছবি: রকিব হাসান

দ্বীপে পৌঁছেই তিন ভাগ হয়ে শুরু হয় ময়লা কুড়ানো। দুদিনে যতটা সম্ভব প্লাস্টিকের বোতল, বিস্কিটের প্যাকেট চিপসের প্যাকেট, পলিব্যাগসহ সব ধরণের বর্জ্য। ৯৪ টি পলিথিন ব্যাগে ভর্তি করে রিজার্ভ করা ট্রলারে টেকনাফে আনা হয় এসকল বর্জ্য। এই ইভেন্টের অন্যতম সংঘটক নিয়াজ মোর্শেদ জানিয়েছেন, ‘এই তিনদিনে তারা দ্বীপের ময়লার দশভাগের একভাগও কুড়াতে পারেনি।’

টিওবির আরেকজন এডমিন তানভীর মৃদুল বলেন, ‘২১ বছর আগে তিনি এ দ্বীপে এক টুকরো প্লাস্টিকও দেখেননি। আজ দ্বীপের অন্যতম সমস্যাই হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের প্লাস্টিকের বোতল। অথচ একটু সচেতন হলে আমরা এ ধরণের দূষণ রোধ করতে পারি।’

ফিরতি পথে। ছবি: নিয়াজ মোর্শেদ

আয়োজকদের বার্তা পরিস্কার। তারা চান এ ধরণের ইভেন্ট দেখে মানুষের বিবেক একটু হলেও জাগ্রত হোক। বিচে ডাস্টবিন নেই কেন, সরকার কি করে, মেম্বার-চেয়ারম্যান দেখেনা, এসব না ভেবে ব্যাক্তি উদ্যোগে শুধু নিজের ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল/প্যাকেট দ্বীপে ফেলে না এসে মেইনল্যান্ডের যথাস্থানে ফেলার ব্যবস্থা করি। এটুকু করতে পারলেই এ দ্বীপের দূষণ সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসতে পারে।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

73026431_499309080801214_5121852103681114112_n
74615407_604237516988756_3060769724364226560_n

Tourplacebd.com