শেখপুর জামে মসজিদ কেশবপুর যশোর

যশোরের কেশবপুরের শেখপুরা জামে মসজিদ। এই মসজিদের মক্তবে ১৮৩০ সালে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখাপড়ার হাতেখড়ি। মসজিদের ইমাম মৌলভী লুৎফুল হক কবির প্রথম শিক্ষাগুরু। তিনি কবিকে বাংলা ও ফরাসি শিখিয়েছেন। সে সময় মক্তবভিত্তিক যে পাঠশালা ছিল, শেরপুরা জামে মসজিদটি তার অন্যতম। যা এখনো ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মধুকবির জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি যাওয়ার পথে শেখপুরা গ্রামে এই মসজিদটি অবস্থিত। ঐতিহাসিক মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট। মনে করা হয় মসজিদের পুব পাশে ৪টি স্তম্ভের ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো একটি বারান্দা ছিল যার ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। মূল বারান্দা থেকে পুব দিকে একটি ১ মিটার উঁচু দেয়াল রয়েছে। এ দেয়ালঘেরা চত্বরের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে দুটি প্রবেশপথ রয়েছে। মসজিদটির আয়তন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মিলিয়ে ২১.৫ মিটার ও ১৬.৬ মিটার এবং এর উচ্চতা ১২ মিটার।

ইতিহা

১৬০০ খ্রিস্টাব্দে মৌলভী সৈয়দ বিরাজতুল্লাহ এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০০ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি তাদের অধীনে করে। ইট-সুরকির গাঁথুনির এই মসজিদে স্থানীয় মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। ধর্মীয় দিক দিয়ে মসজিদটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মধুসূদনের প্রথম পাঠশালা হিসেবে এই মসজিদটি ঐতিহাসিক। মোঘল আমলের স্থাপত্যশিল্পের সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে এই মসজিদে।

শেখপুরা জামে মসজিদের খতিব কাজী রবিউল ইসলাম জানান, প্রাচীন আমল থেকে এই মসজিদে নামাজ আদায় করা হয়ে থাকে। এখানে প্রায় ১শ’ শিশু কোরআন শিক্ষা নেয়। এখানে অনেক দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ আসে দেখতে ও নামাজ আদায় করতে।

স্থানীয় সাজ্জাদ হোসেন, আমিনুর রহমান, মুফতি তাহেরুজ্জামান ও আব্দুস সালাম জানান, ঐতিহাসিক এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে তাদের ভালো লাগে। এই মসজিদটির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ইট-সুরকি খসে পড়ছে। যার সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। তারা এমসজিদটি সংস্কারের দাবি জানান।

অবকাঠামো

শেখপুরা মসজিদটি ৩ গম্বুজ বিশিষ্ঠ যা মুঘল স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। মনে করা হয় মসজিদের পূর্ব পাশে ৪টি স্তম্ভের ভিত্তির উপর দাঁড় করানো একটি বারান্দা ছিল যার কিছুটা ধ্বংসাবশেষ এখনো বিদ্যমান। মূল বারান্দা থেকে পূর্ব দিকে একটি ১ মিটার উঁচু দেয়াল রয়েছে। এ দেয়ালঘেরা চত্বরের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে দুটি প্রবেশপথ রয়েছে।

মসজিদটির আয়তন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মিলিয়ে যথাক্রমে ২১.৫ মিটার ও ১৬.৬ মিটার এবং এটি ১২ মিটার উঁচু।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

73026431_499309080801214_5121852103681114112_n
74615407_604237516988756_3060769724364226560_n

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Tourplacebd.com