ভুটান ভ্রমণ বিস্তারিত পারো-থিম্পু-পুনাখা

পারো-থিম্পু-পুনাখা। ৬দিন ৫ রাত। সার্ভিস প্রোভাইডার – কসমস হলিডে, ঢাকা। ১ম দিন বিকাল ৫টায় পারো পৌঁছানো। রাতে রেমা রিসোর্টে রাত্রি যাপন। ২য় দিন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৯৮৮ মিটার উচ্চতার চেলালাপাস ভ্রমণ। বিকালে শহর ভ্রমণ। ৩য় দিন দু’টি জায়গা দেখে থিম্পুতে যাওয়া। পারো ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গিয়ে দেখি বৌদ্ধদের বিশেষ দিন বিধায় সেটি বন্ধ। একটু মন খারাপ হলো। বন্ধের বিষয় গাইড কাম ড্রাইভারের জানার কথা। চাইলে আগের দিন বিকালে এখানে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। কিছু বললাম না। ভুল হতেই পারে। দুপুরের মধ্যে ১ঘন্টার গাড়ি দূরত্বের থিম্পুতে চলে গেলাম।
৪র্থ দিন আড়াই ঘন্টার পাহাড়ি দূরত্বের পুনাখা শহরে যাওয়া। দুপুরের ভিতরই হোটেলে চলে গেলাম। গাইড জানালেন বেলা সাড়ে তিনটায় পুনাখা ফোর্ট দেখতে রওয়ানা দিবো। দুপুর ২টার মধ্যেই খাওয়া-দাওয়া শেষ। বের হলাম ফোর্টের উদ্দেশ্যে। হোটেল থেকে অনেকটা নিচে নেমে সাড়ে চারটায় সেখানে পৌঁছালাম। টিকেট ঘরে যাওয়ার পর আমাকে জানানো হলো – সময় শেষ, টিকেট বিক্রি করা হবে না। আর ভিতরে যেতে পারলেও সিকিউরিটির লোকজন বের করে দেবে। গাইডকে বললাম আমাকে কেন আগে টাইমিংয়ের বিষয়টা জানাননি। দুপুরে খাওয়ার পর হোটেলে কিছুই করার ছিল না। জানালে তো আমরা আগে চলে আসতে পারতাম। আমার মেজাজটা সপ্তমে চড়িয়ে গাইড বললো সে না কি আমাকে আগে জানিয়েছে! আমি বললাম যে আমাকে জানাননি। সে দৃঢ় কণ্ঠে বললো যে আমাকে জানিয়েছে। কি মিথ্যা! রাগ নিয়ন্ত্রণে রেখে সোজা হোটেলে চলে এলাম। ফোন দিলাম ঢাকার কসমস হলিডের প্রতিনিধির নিকট। উল্লেখ্য, কসমস হলিডে কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়ে রেখেছিল যে ড্রাইভারজনিত বা যে কোনো সমস্যায় তাদেরকে যেন ফোন করি। তাহলে বিষয়টা তারা দেখবে। প্রতিনিধিকে জানালাম গাইডের অজ্ঞতার কারণে কীভাবে মিউজিয়াম ও ফোর্ট দেখা মিস করেছি। বললাম আমার গাইড চেইঞ্জ করে দেন। সে আসলে কিছু্ই জানে না। আর আমাকেতো মিথ্যুক বানিয়ে সে যুধিষ্ঠির হয়ে গেছে। প্রতিনিধি জানালেন তিনি বিষয়টা দেখছেন। একটু পরে ফোন করে জানালেন যে তারা ড্রাইভার চেইঞ্জ করে দিতে পারবেন না। এই গাড়িতে করেই থিম্পু যেতে হবে। আর ড্রাইভারকে খুব করে বকে দিয়েছেন। কোনো সমস্যা হবে না। কি সর্বনাশ! যে যাত্রীর কারণে ড্রাইভার বকা খেয়েছে সে কি আমাকে নিরাপদে থিম্পু পৌঁছে দিবে? বাচ্চারা সঙ্গে আছে। হয় ট্রাকের নিচে ফেলবে বা পাহাড়ের খাদে ফেলবে! প্রতিনিধিকে জানালাম আমার গাড়ির ব্যবস্থা আমিই করছি। হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানাতেই গাড়ির ব্যবস্থা হয়ে গেলো।
এই সময় সিনেমার বিরতির পূর্ব মুহূর্তের সংকটকালে বিশেষ চরিত্রের মতো আবির্ভূত হলেন ভারতের শিলিগুড়ির জনৈক প্রিয়তোষ সরকার। তিনি দাবি করলেন এই ব্যবসা তার। কসমস হলিডে তার ঢাকাস্থ অফিস। তিনি জানালেন গাড়ির ভাড়া আমাকে দিতে হবে না। থিম্পুর আমোধারা হোটেল ম্যানেজার তার পরিচিত। তাকে দিয়ে গাড়ির ভাড়া দিয়ে দিবেন। আর পরদিন সকাল থেকেই থিম্পুর হোটেলে আমার জন্য গাড়ি থাকবে, ড্রাইভার ভিন্ন।
৫ম দিন রওয়ানা দিয়ে সকাল ১০টার মধ্যেই থিম্পু চলে আসলাম। রিসিপশনে খোঁজ নিলাম। জানলাম তাদেরকে কেউ ফোন করেননি, প্রিয়তোষ সরকার নামে তারা কাউকে চিনেন না এবং হোটেলে আমার জন্য কোনো গাড়ি রাখা নেই! মেজাজতো অষ্টমে চড়ার কোনো সুযোগ নেই, তাই বাক্যহারা হলাম! এবারও ত্রাতার ভূমিকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি দিয়ে চমৎকার ট্যুর প্ল্যান করে দিলেন। গাড়ি ঠিক করে দিলেন। গাড়ি নিয়ে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে হোটেলে এসে ঢাকার কসমস হলিডে প্রতিনিধিকে সকালের বিষয়টা জানালাম। বললাম কি রকম আমি আপসেট হয়ে আছি। যথারীতি তারা দেখছেন মর্মে জানালেন। বেলা দেড়টার দিকে একজন ড্রাইভার এসে হাজির। কেউ একজন তাকে পাঠিয়েছে আমাদের ডিউটি করার জন্য। জানালাম আমাদের তো সারাদিনের জন্য গাড়ি ঠিক করা হয়েই গেছে! ঢাকার প্রতিনিধি পুরো নিশ্চুপ। আর ঐদিকে ফোন করলে গাড়ি ভাড়া দিতে হয় কি না এই মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বে হয়তো প্রিয়তোষ বাবুও তার ওয়াটসঅ্যাপে কুলুপ এঁটে দিলেন।
জ্বি, পুনাখা থেকে থিম্পু ফিরে আসা, থিম্পু শহরে ঘোরা এবং ৬ষ্ঠ দিন পারোতে প্লেন ধরার বিষয়টি নিজ খরচে, নিজ দায়িত্বে করতে হয়েছে। যদিও এই দায়িত্ব পালনের জন্য কসমস হলিডে কর্তৃপক্ষ আমার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। ভ্রমণ শুরুর আগেই তাদেরকে প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা দেওয়া হয়েছে। এমনকি রবিবার দিন, ধর্মীয় বিষয়, রুট পারমিট ইত্যাকার ইস্যুর কথা বলে পুনাখা ভ্রমণের জন্য প্যাকেজের বাইরে জনপ্রতি অতিরিক্ত টাকাও তারা নিয়েছে। কিন্তু পুনাখার মূল আকর্ষণ পুনাখা ফোর্টই আমাদের দেখা হয়নি। ভ্রমণকালে আমাকে যে সার্ভিস দেওয়ার কথা সেটা কাট করে নিশ্চয় অন্য জায়গায় ব্যয় করে আয়ও করেছে। অর্থাৎ সার্বিকভাবেই কসমস হলিডে কর্তৃপক্ষ লাভবান হয়েছে। ব্রাভো! ইথিক্যালিও তাদের হারানোর কিছু ছিল না। কারণ কিছু হারাতে হলে কিছু থাকতে হয়। তবে যা ক্ষতি হয়েছে সেটা আমার। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে। এসব ট্যুর এজেন্সির উপর হারিয়েছি আস্থা ও বিশ্বাস এবং সঙ্গে ন্যাড়াও হয়েছি। আগামীতে আবার কি বেলতলায় যাবো?

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

error: Content is protected !!
Tourplacebd.com