ব্যাংককের নিকটবর্তী ৫টি অসাধারণ দ্বীপ: ঘুরে আসতে পারেন সহজেই

ছবির মতো সুন্দর সব সৈকতের জন্য থাইল্যান্ডের বেশ সুনাম আছে। তবে সৈকতগুলো দেশটির দক্ষিণে হওয়ায় ব্যাংকক থেকে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় বেশ দীর্ঘ সময়। কোথাও কোথাও যেতে পুরো একটি দিন পর্যন্ত লেগে যায়। এই লেখায় থাকছে মনোমুগ্ধকর পাঁচটি দ্বীপের কথা যেগুলো ব্যাংকক থেকে একদমই কাছে। সৌন্দর্যেও অতুলনীয়।

১. কোহ লান

ব্যাংকক থেকে এই দ্বীপটিই সবচেয়ে কাছাকাছি। চোনবুরি প্রদেশের অন্তর্গত কোহ লানে থাই রাজধানী থেকে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র দু’ঘণ্টা! আরেকটি মজার বিষয় হলো পাতায়া সিটি থেকেও আসা যায় এই দ্বীপে। কোহ লান আর পাতায়ার দূরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার।
কোহ লানে সব মিলিয়ে ছয়টি সৈকত আছে। প্রতিটিই অসাধারণ সুন্দর। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতটি হচ্ছে “হাত তা ওয়েন”। কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি আর মিহি বালুর এই সৈকতে প্রতি বছর ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক।
আপনি যদি কোলাহল থেকে দূরে শুধুই নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চান, তবে কোহ লানের “হাত তিয়েন” সৈকতে চলে আসতে পারেন। বেশিরভাগ সময়ই এই সৈকতটি মোটামুটি জনশূন্যই থাকে। নিজের মতো কিছুটা সময় উপভোগ করার জন্য হাত তিয়েনের তুলনা নেই।
এছাড়া ওয়াটার স্পোর্টসের স্বাদ নিতে চাইলে আপনাকে চলে যেতে হবে কোহ লানের “হাত থং ল্যাং” সৈকতে। স্নোরকেলিং, ডাইভিং আর সি ওয়াকিংয়ের সুব্যবস্থা আছে এখানে।
পাতায়া সিটির “বালি হাই পিয়ের” থেকে শেয়ার্ড বোটে মাত্র ২০ বাথের বিনিময়ে পৌঁছে যেতে পারবেন কোহ লানে। সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। আর গতির রোমাঞ্চ নিতে চাইলে “পাতায়া পিয়ের” থেকে স্পিড বোটেও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে ১০০ থেকে ১৫০ বাথ।

২. কোহ সামেদ

কোহ সামেদ স্থানীয় থাই অধিবাসীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়। ছুটির দিনগুলোতে তাই এই দ্বীপে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। ব্যাংকক থেকে ২.৩০-৩ ঘণ্টার মাঝেই পৌঁছানো যায় এখানে।“হাত সাই কিউ” কোহ সামেদের সবচেয়ে বিখ্যাত সৈকত। পার্টি লাভার হয়ে থাকলে আপনাকে এক রাত কাটাতেই হবে এই সৈকতে!নির্জনতা উপভোগের সুযোগ কোহ সামেদেও আছে। “আও অং দুয়ান” বা “আও পারো” সৈকতে গেলেই পেয়ে যাবেন সেই সুযোগ।

৩. কোহ চ্যাং

থাইল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপটির নাম কোহ চ্যাং। ট্র্যাট প্রদেশের অন্তর্গত এই দ্বীপটিতে গাড়ি নিয়ে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৫ ঘণ্টা। তবে সময় বাঁচাতে চাইলে প্লেনেও আসতে পারেন। ব্যাংকক এয়ারওয়েজের মাধ্যমে এক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যেতে পারেন কোহ চ্যাংয়ের নিকটবর্তী এয়ারপোর্টে। এরপর ভ্যান নিয়ে চলে আসতে হবে জেটিতে। সেখান থেকে ফেরিতে চড়ে আধ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন কোহ চ্যাংয়ে।শুধু সৈকতই নয়, এই দ্বীপে আছে চোখ ধাঁধানো সব ঝর্ণা, উঁচুনিচু পাহাড় আর ম্যানগ্রোভ বন! থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্কের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বলা যেতে পারে, কোহ চ্যাং আপনার জন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে অপেক্ষা করছে!গা এলিয়ে সৈকতে আরাম করার পাশাপাশি ট্রেকিং আর কায়াকিং করার সুযোগও পেয়ে যাবেন এখানে।

৪. কোহ ম্যাক

থাইল্যান্ড গালফের পূর্বে অবস্থান করা কোহ ম্যাকে মানুষের আনাগোনা খুবই কম। প্রশান্তিময় নিস্তব্ধতা আর নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য এই দ্বীপটিই আদর্শ। নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে একান্তে কিছু সময় কাটাতে চাইলে বিনা দ্বিধায় চলে আসতে পারেন কোহ ম্যাকে।কোহ চ্যাংয়ের মতো উঁচুনিচু না হয়ে মোটামুটি সমতল হওয়ায় পায়ে হেঁটেই পুরো দ্বীপটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন। “আও কাও”, “আও সুনান ইয়াই”, “আও নিদ” আর “আও তান” নামের চারটি মনোরম সৈকত আছে দ্বীপটিতে।নারকেল আর পাম গাছে ঘেরা এই দ্বীপটি ঘুরে দেখার জন্য গলফ কার্টও ভাড়া করে ফেলতে পারেন। কম খরচে মানসম্মত রিসোর্ট আর হোটেলও খুঁজে পাবেন।ব্যাংকক থেকে এখানে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় ৬-৭ ঘণ্টা। আরও কম সময়ে পৌঁছাতে চাইলে ট্র্যাট থেকে প্যাসেঞ্জার বোট বা স্পিড বোটে চড়ে বসতে পারেন। এক ঘণ্টার মধ্যেই স্পিড বোটে করে পৌঁছে যেতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ৪৫০ বাথ। আর প্যাসেঞ্জার বোটের ভাড়া ২০০ বাথ। তবে সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘণ্টা।

৫. কোহ কুদ

অন্য চারটি দ্বীপের ঝকঝকে স্বচ্ছ পানি থেকেও স্বচ্ছ এই দ্বীপের পানি। তাই স্নোরকেলিং আর ডাইভিংয়ের স্বর্গ বলা হয়ে থাকে কোহ কুদকে। পুরো দ্বীপ জুড়েই ছড়িয়ে আছে একাধিক স্নোরকেলিং আর ডাইভিং সাইট।কোহ ম্যাকের মতোই কোহ কুদে আছে আরামদায়ক নিস্তব্ধতা। আর আছে সবুজ প্রকৃতির হাতছানি। এখানে এলে পেয়ে যাবেন ঘন বনের দেখা। পেছনে সবুজ বন আর সামনে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল পানি দেখে উদাসীনতার রাজ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে আপনাকে কোহ কুদে আসতেই হবে!ট্র্যাটের “লিম গব” থেকে স্পিড বোটে করে এখানে পৌঁছে যাবেন এক ঘণ্টার মধ্যে। প্যাসেঞ্জার বোটে আসতে লেগে যাবে তিন-চার ঘণ্টা। খরচ কোহ ম্যাকের মতোই।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

73026431_499309080801214_5121852103681114112_n
74615407_604237516988756_3060769724364226560_n

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Tourplacebd.com