বাংলাদেশের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

করোনার সংক্রমণ এড়াতে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনস্পট বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে করোনা আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পর্যটন স্পটগুলোর হোটেল বুকিং বাতিল করেছেন পর্যটকরা। 
চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব হোটেল, কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে বুকিং বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে এ কথা জানান সিএমপি কমিশনার মো.মাহাবুবুর রহমান।
পাশাপশি বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে নগরীতে কাজ করছে কমিউনিটি পুলিশ।
সিএমপি দক্ষিণের উপ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান বলেন, প্রবাসীরা যাতে দু সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইনে থাকে সেটা আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত নয়টায় এ তথ্য জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটির সব পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ নির্দেশনা যদি কেউ অমান্য করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শহরে মাইকিং করেছে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিস। মাইকিংয়ে জানানো হয়, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাতে কেউ হাট বাজারে বা জনসমাগম হয় এমন স্থানে না যায়। করোনা নিয়ে কোনো গুজবে কান না দিয়ে সচেতন হতে বলা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা আবাসিক হোটেলি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, বুধবার যারা রাঙামাটি এসেছেন তাদের কাল সকালে রুম ছেড়ে দিতে বলা হবে। আর কাল থেকে নতুন করে কাউকে রুম ভাড়া দেয়া হবে না। আমরা ইতিমধ্যে সকল হোটেল মালিককে জানিয়ে দিয়েছি।
করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে খাগড়াছড়িতেও বিদেশি পর্যটকের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস। একই সঙ্গে দেশি পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনা ভাইরাস যেহেতু সংক্রামক তাই দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এই সময়ে যাতে পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে না আসে। জনস্বার্থে এবং নিজেদের সঙ্গে আপাতত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বান্দরবানে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম কর্তৃক জেলা প্রশাসনের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
থানচি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক মৃদুল বুধবার দুপুরে জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে থানচিতে ভ্রমনেচ্ছু পর্যটকদেরকে আপাতত আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।এই ব্যাপারে তিনি পর্যটকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বুধবার বিকালে চীন প্রবাসী নারীসহ ৪ জনকে কোয়ারেইন্টেনে রাখার কারণে বান্দরবান জেলা প্রশাসন দ্রুত এই নির্দেশনা জারি করে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, যাদুকাটা নদী, বারিক টিলা, শহীদ সিরাজলেক, টেকেরঘাট, শিমুলবাগানসহ সকল পর্যটন স্পটে পর্যটকদের ভ্রমণ ও যাতায়াত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার রাতে এসব কেন্দ্রে পর্যটকদের যাওয়ার নিষেধের আদেশ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী। দেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ও জনগণকে নিরাপদ রাখতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াত নিষেধ থাকবে বলে জানান তিনি।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, এসব পর্যটন স্পটে পুলিশের নিয়মিত নজরদারি থাকবে।
করোনা ভাইরাসের কারনে পর্যটন এলাকা কুয়াকাটার সকল হোটেল মোটেল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময় পর্যটকদের না আসতে বলা হয়েছে। মাইকিং করে পর্যটকদের বাড়ি ফিরে যেতে বলছে টুরিষ্ট পুলিশ।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল পর্যটকদের আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে বাড়ী ফিরে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া হোটেল মোটেলগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হোটেলে কক্ষ বুকিং না রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া আজ থেকে সৈকতের সকল দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জনাব মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে আমরা বন্ধ ঘোষণা করেছি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা নিরপদে ঘরে থাকবে। সাথে সাথে তাদেরকে বলা হয়েছে বিনা কারণে বাইরে না যাওয়ার জন্য । যারা কুয়াকাটায় ভ্রমণ করতে আসতে চান তাদেরকে অনুরোধ করবো ঝুঁকিমুক্ত সময় নির্ধারণ করে বেড়াতে আসার জন্য।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সুন্দরবনের সকল পর্যটন এলাকা বন্ধ ঘোষণা করেছে খুলনা বিভাগীয় বন বিভাগ। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সুন্দরবনে ভ্রমণ না করতে পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে করোনা প্রতিরোধে জনসমাগম এড়াতে রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়ি, সুরভী উদ্যান, চিড়িয়াখানাসহ সবগুলো বিনোদনকেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

Tourplacebd.com