প্রাকৃতিক সৌন্দ্যযের লীলাভূমি “নিঝুম দ্বীপ”

নিঝুম দ্বীপের নাম শুনিনি এমন প্রকৃতি প্রেমি খুব কমই আছে।একদিকে মেঘনা নদী আর তিন পাশে বঙ্গোপসাগর ঘিরে জেগে উঠা এক অপার প্রাকৃতিক সৌন্দ্যযের লীলাভূমি এই নিঝুম দ্বীপ।১৯৪০ সালে জেগে ওঠা এই দ্বীপের অবস্থান নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায়।এই দ্বীপের প্রায় শতভাগ মানুষ মৎস্য ও কৃষিকাজের সাথে জড়িত থাকায় এখনো আধুনিকতা তেমন প্রভাব বিস্তার করেনি।প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য মনে হবে এই নিঝুম দ্বীপ।

Image may contain: outdoor and nature

আমরা সকাল ১০.৩০ টার সময় নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার এলাকায় পৌছায়, তারপর নামার বাজার ও আশেপাশে এলাকাটা ঘুরে দেখি, বাজারেই রয়েছে সরকারি ডাকবাংলো সহ আর কিছু আবাসিক হোটেল।হোটেল ভাড়া করে একটু রেস্ট নিয়ে দুপুরনাগাদ আবার বের হয়, হোটেলে খাওয়ার সময় বিকেলে ঘোরার ট্রলার ভাড়া করি চৌধুরির খাল, ম্যানগ্রোভ বনভূমি ও কবিরাজের চর দেখার জন্য। তারপর ৩ টার সময় বেরিয়ে পড়ি ট্রলারো করে চৌধুরী খালের উদ্দেশ্যে, ট্রলারের উপর থেকে বনের পরিবেশ খুব ভাল ভাবেই উপভোগ করা যাচ্ছে, ম্যানগ্রোভ বনভূমির শ্বাসমূল গুলো খালের পারে বের হয়ে আছে, আর পাখির কিচিরমিচির ও বকের মাছ ধরার দৃশ্য সবসময়ই চোখে পড়ছে।জেলেরা সবাই মাছ ধরায় ব্যস্ত আবার কেউ বঙ্গপসাগরে পাড়ি দেয়ার পস্তুতি নিচ্ছে।কিছুক্ষণ পরেই চলে গেলাম চৌধুরির খালে, খালের পাশেই বিশাল চারণভূমি আর একে ঘিরেই নিঝুম দ্বীপে প্রচুর মেষ ও গবাদিপশু পালন হয়। পড়ন্ত বিকেলে চারণভূমি ও নদীর পরিবেশটা অনেকটা রংতুলি দিয়ে আঁকা ছবির রূপ ধারণ করেছিলো। তারপর প্রবেশ করলাম বনের ভিতরে চারিদিকে শান্ত,হালকা পাখির কিচিরমিচির আর মাঝে মাঝে হরিণের ডাক শোনাযাচ্ছে, এগিয়ে চলছি নিঝুম দ্বীপের গভীরে, এই বনে কোন হিংস্র প্রানী নেই তাই নিশ্চিন্তে এগিয়ে যেতে পারেন, বনের মধ্যে শ্বাসমূলের কারণে হাটতে সমস্যা হচ্ছিলো আর এক ধরনের ধারালো কাটা যুক্ত গাছও গায়ে বাধছিলে তাই একটু সাবধানে আর ধিরে চলায় ভাল।কিছুক্ষণ পর একটা পুকুরের পাড়ে পৌছালাম, আমাদের গাইড হিসেবে ছিলো দুই পিচ্চি ঐরা বল্লো এখানে হরিণ ও অন্যান্য প্রানী পানি খেতে আসে কিন্ত ভাগ্য খারাপ থাকলে যা হয় আরকি হরিণ দেখা আর জুটলোনা।

Image may contain: ocean, outdoor, water and nature

একটু পুকুরপাড়ে বসে আবার বেরিয়ে পড়ি ট্রলারের দিকে, ট্রলারে উঠেই সূর্য অস্তের অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়ল, তারপর আশেপাশে ঘুরে সমূদ্র সৈকতে নামি। বিচে নামতেই দেখি হাজার হাজার লাল কাঁকড়া মাথা উচু করে আছে এটা অনেকটা সারপ্রাইজই ছিলো, জানতামনা যে নিঝুম দ্বীপেও লাল কাঁকড়া আছে। কাঁকড়ার পিছে দৌড়াতে দৌড়াতেই সন্ধা পার করে দিলাম। তারপর রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে ডিনারের জন্য বের হলাম, বাজারের যেয়েতো আমরা সবাই অবাক যেই বাজার এসে দেখি ফাঁকা ছিলো সেই বাজার এখন কানাই কানাই পূর্ণ, আর সবার একটা কমন জিনিস লক্ষ্য করলাম তা হলো সবাই লুঙ্গী পড়া। তারপর রাতে হোটেলে ফিরে আবার রাত ২ টার দিকে বেরিয়ে ছিলাম সমুদ্র বিলাসে কিন্ত ভাটা থাকায় পানি অনেক ভিতরে ছিলো। নিঝুম দ্বীপে সারারাত ঘুরে বেড়ানো যায় কোন চুরি, ডাকাতের ভয় নেই।সারা দিনের ক্লান্তির পর রাতে একশান্তির ঘুমহলো।পরের দিন সকালে উঠে লাল কাকড়া দেখতে দেখতে চলে গেলাম নিঝুম দ্বীপ সৈকতে। সৈকতে আমরা ছাড়া আর কেও নেই,চারিদেকে পরিষ্কার এযেন অন্যরকম এক বাংলাদেশ। তীরে যেয়ে দেখি প্রচুর মাছ সমুদ্রের ঢেউয়ে খেলা করছে।তারপর সমুদ্র বিলাস শেষ করে নিঝুম দ্বীপের ঘুরাঘুরির ইতিটানি টানলাম।।।

Image may contain: sky, ocean, tree, outdoor and nature

খাওয়া দাওয়া

নিঝুম দ্বীপ ইলিশ জন্য বিখ্যাত তাই ইলিশ খাবেন আর মহিষের দুধের দই খেতে পারেন।
খাবার আগে দরদাম করে খাবেন আর খাবারের মান খুব বেশি ভাললাগিনি।

Image may contain: tree, plant, sky, outdoor, nature and water

যাতায়াত

(একটু দরদাম করলে সব দামই কমানো সম্ভব, আমরা এর চেয়ে কিছু কম খরচে ঘুরেছি)

সদরঘাট-হাতিয়া(লঞ্চে) -ডেক ভাড়া ২০০৳ সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ ও ডাবল কেবিন ১৮০০৳
লঞ্চ-ফারহান ও তাসরিফ, ছাড়ার সময় বিকাল ৫.৩০ ও ৬ টা

হাতিয়া তমরউদ্দীন ঘাট থেকে- মুত্তারিয়ার ঘাট (মোটরবাইক) ২০০৳

নদী পার (স্পিড বোর্ট) ৬০৳ নৌকা-২০৳

নদীপার হয়ে-নামার বাজার (মোটরবাইক) ৫০৳

নিঝুম দ্বীপ ঘোরার নৌকা রির্জাভ(৭জন) ১০০০৳

হোটেল ভাড়া(৭জন) ১২০০৳

পিচ্চি গাইডদের -৫০৳ করে দিয়েছিলাম

নিঝুম দ্বীপ আমাদের জাতীয় সম্পদ তাই এর পরিবেশ ভালো রাখার দায়িত্ব ও আমাদের

Image may contain: sky, tree, outdoor and nature

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

73026431_499309080801214_5121852103681114112_n
74615407_604237516988756_3060769724364226560_n

Tourplacebd.com