দুই হাজার টাকায় ২ দিন, তাও বিদেশ ভ্রমন

দুই হাজার টাকায় বিদেশ ভ্রমন! যখন প্রথম বাক্যটি পড়েছেন সাথে সাথে ভাবছেন আসছে হরিদাস পাল দুই হাজার টাকায় বিদেশ ভ্রমনের গাজাখুরি গল্প নিয়ে। আজকাল তো একদিনের চাদপুর ডে ট্রিপ বা মাওয়া ঘাটের ইলিশ ট্রিপেই চলে যায় ১০০০/১৫০০ টাকা সেখানে ২০০০ হাজার টাকায় বিদেশ ভ্রমন কিভাবে সম্ভব? হ্যা সম্ভব। এই দুই হাজার টাকায় বিদেশ ভ্রমন সিরিজে দুইটা লেখা হবে যেগুলা আসলেই ঢাকা থেকে ঢাকা ২০০০ টাকায় ভ্রমন করা সম্ভব। পড়তে থাকুন।

আগেই বলে রাখি এই ভ্রমনের সময়সীমা ২ দিন। অর্থাৎ শুক্র-শনিবার। ২০০০ টাকা খরচ করে চাদপুর রোজ রোজ না গিয়ে পার্শবর্তী ত্রিপুরা বা মেঘালয়ের সোনেংপেডেং এবং মাওলিননং ঘুরে আসুন। স্বল্প টাকায় বিদেশ ভ্রমন হবে, অভিজ্ঞতা বাড়বে। অন্তত ভারতের দুইটা ভিন্ন প্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা ঘোরা হবে। দুইবার বিদেশ ভ্রমনের অভিজ্ঞতা হবে।

এই প্যাকেজে যা যা লাগবে। আগরতলা পোর্ট দিয়ে ভারতীয় ভিসা। সেটা কিভাবে করবেন আপনার দায়ীত্ব। আর লাগবে কমপক্ষে ৩ জন আপনার মতো ভ্রমন পাগল, কষ্ট সহ্য করতে পারবে এমন ট্রাভেলার। অর্থাৎ খাওয়া,শোওয়া নিয়ে যাদের খুব একটা নাক উচা স্বভাব নাই। ৪ জন হলে এই ট্রিপ খুব ভালভাবে ২০০০ টাকায় করে আসা সম্ভব। সাথে লাগবে একেবারেই হালকা ব্যাগ। মানে ভার্সিটি বা অফিসে গেলে আমরা যতটুকু ওজনের ব্যাগ নিই তেমন আরকি। যেহেতু দুইদিন সুতরাং পরনের পোশাক, একসেট ঘুমানোর কাপড়, মোবাইল চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক, টাওয়েল আর ট্রয়লেটিজ নিলেই এনাফ। এটুকুর ওজন ২/১ কেজির বেশি হওয়ার কথা না। ক্যামেরা যেহেতু সবার থাকেনা, নেন ও না কাজেই এটার হিসাব ধরলাম না। এটা আপনাদের ব্যাপার।

এই খরচের প্যাকেজে থাকবে ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা সকল প্রকার যাতায়াত খরচ, থাকা খাওয়া, ত্রিপুরা ভ্রমনের সকল লোকাল ট্রান্সপোর্ট খরচ। থাকবেনা কোন প্রকার ভিসা ফি, ট্রাভেল ট্যাক্স বা বর্ডারের মামুদের ঘুষঘাস। সেগুলা আপনাকেই আপনার মত ম্যানেজ করতে হবে। আর কোনভাবেই এই খরচের ভেতর কোন প্রকার শপিং নাই কিন্তু।🤪

১ম দিন। বৃহসপতিবার রাতের ঢাকা-চট্রগ্রামগামী শেষ ট্রেনে চড়ে বসুন সদলবলে। ঢাকা- আখাউড়া ভাড়া ট্রেন ভেদে ২০-১৭০ টাকা। কোন ক্লাসে যাবেন আর কত ভাড়া দিবেন সেটা আপনার ব্যাপার। আমি ধরে নিলাম আপনি শোভন চেয়ারে ১৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে আখাউড়া গেলেন। খরচের হিসাব রাইখেন। ২০০০ থেকে ১৭০ টাকা খরচ হয়ে গেল। আখাউড়া নামবেন মোটামুটি রাত ২/৩ টার দিকে। সময় কাটাতে এখানে স্টেশনে বসে বন্ধুরা আড্ডাও দিতে পারেন। স্টেশনের পাশেই ১০০ টাকায় একরাত ঘুমানোর মতো আবাসিক হোটেল ও পাবেন। এসব হোটেলগুলা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন তবে ফিমেল ফ্রেন্ডলি না। ৪ জনই ছেলে হলে গিয়ে ঘুমাতে পারেন তবে ফিমেল কেউ থাকলে স্টেশনে বসে থাকাই রেকমেন্ডডেড। আর আখাউড়া স্টেশন ও খুব ভালো একটা পর্যবেক্ষন করার মতো জায়গা, এখানে প্রচুর টাউট বদমাশ এবং ভালো লোক উভয়ই আছে। সুতরাং যারা বিভিন্ন রকম মানুষের লাইফ স্টাইল এক্সপ্লোর করতে ভালোবাসেন তাদের আমি বলব স্টেশনেই আড্ডা দিতে। আমি ধরে নিচ্ছি আপনারা স্টেশনেই আড্ডা দিবেন।😎

ভোরবেলা একটু আলো ফুটলেই স্টেশন থেকে রিকসা/ইজিবাইক নিয়ে চলে যান আগরতলা স্থলবন্দরে। রিকসা ভাড়া ৫০/৬০ টাকা। ইজিবাইক হলে ১০০ টাকা। আমি ধরে নিলাম পারহেড খরচ হলো ৫০ টাকা। আখাউড়া শহর থেকে স্থলবন্দর মোটামুটি ৫/৬ কিলোমিটার । দুইপাশের সবুজ ধানক্ষেত ভোরের সকালে আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত। রিকসা/ইজিবাইক আপনাকে নামিয়ে দেবে কাস্টমস অফিসের সামনেই। কাস্টমস অফিসের উল্টা পাশে দুইটা ছোট্র চায়ের দোকান সাইজের নাশতার হোটেল আছে। মোটামুটি ৪০ টাকার ভেতর এক ডিম মামলেট, ৩ পরোটা, ডাল আর এককাপ লাল চায়ের নাশতা হয়ে যাবে। এখানে। তাও আবার সবই গরম গরম এবং টিপটপ পরিস্কার পরিবেশে। সবুজ ধানক্ষেত দেখতে দেখতে সকালের নাশতাটা করে ফেলুন। সকাল আটটায় আখাউড়া বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। এখানে একটা ব্যাংক আছে কাস্টমস অফিসের পাশের রুমে। আপনি চাইলে এখানেই ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে পারেন। তবে আমি সাজেস্ট করব ঢাকা থেকে দিতে। এতে করে আপনার ১০০ টাকা বেচে যাবে। ধরে নিলাম আপনার ট্রাভেল ট্যাক্স দেওয়া আছে। সেক্ষেত্রে ৮ টা বাজলেই কাস্টমস রুমে ঢুকে পড়ুন। এটা জাস্ট একটা রুম। সাদা পোশাক পরে দুইটা বদখত 😣 চেহারার লোক বসে আছে। সাধারনত এই বন্দরে ব্যাগ তেমন একটা তল্লাশি করে না, আমি কয়েকবার যাতায়াত করেছি, কোনদিনও আসা যাওয়া কোন পথেই ব্যাগ তল্লাশি হয়না তবে মাঝে মাঝে চা-নাশতা বাবদ খরচ চাইতে পারে। তবে হাসিমুখে এভোয়েড করলে জোরাজুরি করেনা। ধরে নিলাম আপনি কোন টাকাই দিলেন না এবং কাস্টমস ফরমালিটি শেষ হয়ে গেল। এবার কাস্টমস ভবন থেকে বের হয়ে চলে যান বিজিবি চেকপোস্টে। এখানে আপনার ব্যাগ চেকিং হবে এবং খাতায় আপনার ডিটেইলস লিখবে তবে কোন টাকা পয়সা বা এক্সট্রা হয়রানি নাই। এখানের কাজ শেষ করে চলে যান ইমিগ্রেশন অফিসে। ইমিগ্রেশন অফিসে পাগল 🥴 টাইপের এক লোক খালি পায়ে হাটাহাটি করে, ওর কাছে ইমিগ্রেশন কার্ড পাবেন। ওর তাকানো একটু সন্দেহজনক,😉 আপনি নরম ভাব নিলেই ও টাকা চেয়ে বসতে পারে, কাজেই পাত্তা না দিয়ে ইমিগ্রেশন কার্ড নিয়ে নিজ হাতে পুরন করে লাইনে দাড়িয়ে যান। এখানকার ইমিগ্রেশনে কোন ঝামেলাই করেনা। এমনকি চাকুরীজীবীদের এনওসিও দেখতে চায় না। এখানকার ইমিগ্রেশনের প্রধান দুই কর্তাই অত্যান্ত ভদ্রলোক 😎 এবং কো অপারেটিভ । তার নমুনা দেখবেন আগরতলা হতে বিমানের যাত্রী এবং রোগীদের এরা অগ্রাধিকার দিয়ে আগেআগে ডেকে ডেকে ইমিগ্রেশন করে দেয়। মানুষের হয়রানি এই দুই লোকের মগজে নাই। ভীড় ভাট্রা না থাকলে ৫/১০ মিনিটেই কাজ শেষ। এমনকি এরা কোন প্রশ্নও করেনা। যাক সহি সালামতে কোন প্রকার হয়রানি আর খরচ ছাড়াই আপনার বাংলাদেশ অংশের কাজ শেষ। উড়ে উড়ে🛩 এবার চলুন দাদাদের দেশের অংশে।

এ পর্যন্ত আপনার খরচ-১৭০+৫০+৪০=২৬০ টাকা।

দাদাদের দেশের কাস্টমস ইমিগ্রেশনে এসে আপনি বেশ আন্তর্জাাতিক বিমানবন্দরের আমেজ পাবেন😎। খুব সুন্দর আর গোছানো। পরামর্শ থাকল ঢাকা থেকেই বুকিং.কম থেকে আগরতলার কোন হোটেলের ঠিকানা আর ফোন নাম্বার লিখে নিয়ে যান একটা কাগজে। এখানে এখন এটা কাজে দেবে। এখানে কাউন্টার থেকে এরাইভাল কার্ড নিয়ে হোটেলের এড্রেস, ফোন নাম্বার সহ পূরন করে জমা দিয়ে ইমিগ্রেশন কাস্টমস সেরে ফেলুন। কোন ঘুষঘাসের বালাই নাই, তবে ভারতের আর সব বর্ডারের অফিসারদের মতো এদের ব্যাবহার যথেষ্ট রুক্ষ😑। কাজেই হাসিমুখে কথা বলুন। ভিড় না থাকলে এখানে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে। যাক বর্ডার ফরমালিটি তো হলই এবার আসুন কারেন্সি চেন্জ আর মুল কাজে। আপনার দুই হাজার থেকে খরচ হয়েছে কিন্তু ১৭০+৪০+৫০=২৬০ টাকা। অর্থাৎ ২৬০ টাকায় আপনি ভারতে। ১০/২০ টাকা খরচ বাড়তে পারে। আখাউড়া বন্দরে সারারাত আড্ডা মেরেছেন । ২০ টাকার চা-সিগারেট খেতেই পারেন। এবার চলে যান বর্ডার থেকে সোজা ৫ মিনিট হেটে চৌরাস্তা নামক বাজারে। বাজারের রাস্তায় বর্ডার থেকেই ইজিবাইক চালকেরা পিছে লাগবে পাত্তা দিয়েন না। মুরগী পেয়ে খসিয়ে দেবে। চৌরাস্তায় গিয়ে অনেক মানি একচেন্জ পাবেন। এখান থেকে ১২৫০ টাকা এক্সচেন্জ করে নিন। ১০০০ রুপি পাবেন। এটাই আপনার দুদিনের ভ্রমন খরচ😎। জি শেষে কিছু রুপি থেকেও যেতে পারে। এখান থেকে জনপ্রতি দশ রুপি ইজিবাইকে করে চলে আসুন বটতলা মোড়ে। ইজিবাইক ওয়ালারা বেশি চাইবে তবে কোনমতেই দেবেননা। বলবেন রিজার্ভ নিবো না, লাইনে যাব। আর রিকসা নিলে ৩০ রুপি। আমি ধরলাম পারহেড ১৫ রুপি খরচ হল আপনার। আপনি এসে গেছেন বটতলাতে। জি হ্যা এটাই আগরতলার গুলিস্তান বা মেইন জায়গা। এখান থেকেই আপনাকে সব ঘোরাঘুরি, থাকা, খাওয়া কেনাকাটা করতে হবে। বটতলা নেমে রাস্তা পার হয়ে লাইনের ইজিবাইকে চলে যান আগরতলা বাস স্টান্ডে। একেবারেই পিচ্চি একটা বাস স্টান্ড। ইজিবাইক ভাড়া নেবে মাত্র ১০ রুপি। প্রথম দিন আপনি ঘুরবেন শহরের বাইরের দুই এট্রাকশন কারন পরদিন ৬ টার ভেতর বর্ডার ক্রস করতে হবে। দূরে গেলে রিস্ক হয়ে যাবে। বাসস্টান্ড থেকে বলবেন আপনি সিপাহীজলা যাবেন, নীড়মহলে। আগরতলার লোকেরা সবাই বাংলায় কথা বলে আর বাংলাদেশী শুনলে খুবই সম্মান করে😊। ওখানকার আবহাওয়া, কালচার সবই আমাদের মতো। এছাড়া আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে ত্রিপুরার লোকেদের অনেক অবদান আছে। ওরা ইন্ডিয়ার অন্যান্য অংশের লোকেদের চেয়ে বাংলাদেশীদের সম্মান সমাদর দুইটাই বেশি করে😎। যাইহোক লোকাল বাসে করে চলে যান নীড়মহল এর পার্শবর্তী বাজারে । বাস ওয়ালাকে বললেই একেবারে নীড়মহলের রাস্তার মোড়ে নামিয়ে দেবে। ভাড়া নেবে ৪০ রুপি। এক ঘন্টা মতো লাগবে যেতে। এখান থেকে নীড়মহল যেতে রিকসা নিন। ভাড়া ১০ রুপি। ৫/১০ মিনিটের রাস্তা। নীড়মহলের এন্ট্রি টিকেট ২০ রুপি, লোকাল বোটে যাতায়াত ৩০ রুপি। ক্যামেরা থাকলে ১০ রুপি অতিরিক্ত। ধরে নিলাম এখানে আপনার ৫০ রুপিই খরচ হইল। যে লোকাল বোটেই আপনি গিয়েছেন সেটাতে করেই ফিরতে হবে। বোট সময় দেবে ৩০/৪০ মিনিট। আসলে নীরমহল ছোট্র একটা প্যালেস যেটা ত্রিপুরার রাজা কিশোর মানিক্যের গরমকালের আবাস স্থল। এটার ডিজাইনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর😌। আসলে মহল ছোট, লেকের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করাটাই মজার। শীতকালে গেলে লেকে অসংখ্যা পাখি, হাস এসব পাবেন। মোটামুটি ১ ঘন্টায় আপনার নীরমহল ঘোরা হয়ে যাবে। মোটামুটি দুপুর ১ টার ভেতর নীরমহল ঘোরা শেষ হয়ে গেলে চলে আসুন আবার ওই বাজারে। এখানে স্থানীয় একটা ভালো হোটেল আছে। এই মুহুর্তে নাম ভুলে গেছি। যে কাউকে বললেই দেখায়া দেবে। এখানে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। ১০০ রুপিতে হাফ লিটার পানি সহ চিকেন থালি পেয়ে যাবেন। ভাত ডাল আনলিমিটেড🤤। খেয়েদেয়ে রেস্ট নিয়ে যেখানে বাস থেকে নেমেছিলেন ওখানে আগরতলার দিকে আসার জীপে বা বাসেই চড়ে বসুন। তবে বাস রেকমেন্ডডেড যেহেতু আপনি এবার চলেছেন সিপাহীজলা অভয়ারন্য দেখতে। এটা আগরতলা হতে বেশ আগে কাজেই ভাড়া মাত্র ৩০ টাকা। জীপওয়ালা নাও নিতে পারে। আগরতলা পর্যন্ত জীপভাড়া ৬০ টাকা। আপনি বাসে করে সিপাহীজলা নেমে পড়ুন ভাড়া মাত্র ৩০ টাকা। একেবারে ফরেস্ট অফিসের গেটেই নামিয়ে দেবে। এখানে ৩০ রুপি দিয়ে ঢুকে পড়ুন সিপাহীজলা অভয়ারন্যে। এখানে ২ ঘন্টা, ৩ ঘন্টা ৬ ঘন্টার ট্রেইল আছে ট্রেকিং এর। গাইড না নিলেও চলে। সবখানে মার্কার বসানো আছে। কাজেই একা একাই ঘুরতে পারবেন। দুপুর দুইটার ভেতর আসতে পারলে ৩ ঘন্টার ট্রেইলে ঢুকুন। দেখতে পাবেন বানর, ময়ুর সহ নাম না জানা নানা প্রানী আর পাখি। ৩ ঘন্টার হাটাহাটি করে ৫ টার দিকে বের হয়ে রাস্তা থেকেই বাসে উঠে পড়ুন। বাস আপনাকে আবার আগর তলাতেই নামিয়ে দেবে । ভাড়া ২০ টাকা। ব্যস আপনার ভ্রমন হাফ ডান। বাসস্টান্ড থেকে সকালের মতো ১০ টাকা দিয়ে ইজিবাইকে করে আবার বটতলাতেই চলে আসুন। এখানে এবার আপনাকে হোটেল খুজতে হবে একরাতের জন্য। আপনি চাইলে সকালেও হোটেল বুক দিয়ে ব্যাগ হোটেলের রিসিপশনে রেখে যেতে পারেন। এখানে ৪০০-৪০০০ এর ভেতর ৪ জন থাকার মতো হোটেল পেয়ে যাবেন। আমি বলব ৮০০-১০০০ টাকার ভেতর হোটেল ঠিক করতে। এগুলাও বেশ ভালো মানের এবং ৪ জন আরামে থাকতে পারবেন। এসব রুমে এটাস্ট বাথরুম ও থাকবে। হোটেল নিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন আগরতলা শহর সন্ধাকালীন এক্সপ্লোরে। বটতলাতেই প্রচুর স্ট্রিট ফুড পাবেন ৫/১০/২০ টাকায়😋। হেলদি এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। আমি বলব সন্ধাটা হেটে হেটেই আশপাশ ঘুরুন। যেকোন একটা হোটেল থেকে ১০০ টাকার ননভেজ থালিতে রাতের ডিনার সেরে হোটেলে ফিরুন। আগরতলা ছোট শহর। ১০ টার ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়ে।

প্রথম দিনে আপনার খরচ-১০+১০+৪০+১০+৫০+১০+১০০+২০+৩০+২০+১০+২৫০+১০০+২০ (সন্ধার এটাসেটা খাওয়া)=৬৮০ রুপি।

২য় দিন সকালেই উঠে শাওয়ার নিয়ে একেবারে হোটেল ছেড়ে দিন। নিচে নেমে যেকোন হোটেল থেকে নাশতা করে নিন। খরচ হবে খুব বেশি হলে ৪০ রুপি। এবার পায়ে হেটে আগরতলার উজয়ান্ত প্যালেস, ত্রিপুরা ট্রাইবাল মিউজিয়াম, ইসকন মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, রবীন্দ্রকানন এসব দেখে ফেলুন। আগরতলা খুব ছোট শহর এবং একস্থান থেকে আরেকস্থানের দূরত্ব ১৫/২০ মিনিট। এছাড়া শহরটি খুব শান্ত বিধায় হেটে দেখতেই মজা পাবেন। কষ্টও নাই তেমন। দুপুরে কোন হোটেলে ঢুকে ১০০ রুপির ভেতর খেয়ে নিন। স্পটগুলাতে খুববেশি হলে সারাদিনে ৫০ রুপির টিকেট লাগতে পারে। এর ভেতরেই আগরতলা বড় বাজার হতে বা বিগ বাজার হতে শপিং করে নিতে পারেন। এটা বটতলা-উজয়ান্ত প্যালেসের পথেই পড়বে। এছাড়া এখানেই বেশ কিছু ভালো ব্রান্ডের দোকান আছে। ক্যানন-নিকন এর ব্রান্ডেড শোরুম আছে। লাগলে কেনাকাটা ঘোরাফিরার মধ্যেই করে নিন। সারাদিন ঘুরে ফিরে বিকাল ৪ টার ভেতর চলে আসুন বটতলায়। আগের মতো ১০ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে আসুন বর্ডারে। একই ভাবে আগের দিনের মতো ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সেরে বের হয়ে আসুন। ভারত কাস্টমসে ডলার ভাঙানোর রশিদ দেখতে চাইবে। আপনি চাইলে আগের দিনেই কারেন্সি একচেন্জ এর দোকান হতে ২০ রুপি বেশি দিয়ে এটা নিয়ে নিতে পারেন। এটা না থাকলে এরা বেশ ঝামেলা করে। যদি কার্ড দিয়ে কেনাকাটা করেন তবে ওটার মেমো দেখালে আর কোন ঝামেলা করেনা। আমি পাসপোর্ট ব্যাগে বেশ কিছু পুরানা মেমো রেখে দিয়েছি। প্রতিবার ই একই কুমিরের বাচ্চা দেখিয়ে বের হয়ে আসি।

এবার দেখে নিন ২য় দিনে বাংলাদেশ পর্যন্ত ফেরত আসার খরচ-৪০+১০০+৫০+১০+২০ (কারেন্সি চেন্জ)=২৪০ রুপি।

দুদিনে মোট খরচ=৬৮০+২৪০=৯২০। এখনও আছে ৮০ রুপি। এটা আপনার খরচ হতে পারে চা-সিগারেট আর পানি কিনতে। হা হা হা ১২৫০ টাকা মানে ১০০০ রুপিতে ২ দিনের ভারত ভ্রমন ডান। এবার আগের দিন সকালের মতো রিকসা/ইজিবাইক করে আখাউড়া রেল স্টেশনে চলে আসুন। আজ একটু ভাড়া বেশি লাগবে। এখানকার ইজিবাইক ওয়ালাগুলার একটা সিন্ডিকেট আছে। আপনার কাছে মনমতো চাইবে। না দিলে কেউই আসতে চাইবেনা। তবে সেটাও ২০০ টাকার বেশি লাগবেনা। ধরে নিলাম পারহেড ৫০ টাকা। এবার পুনরায় ১৩০-১৭০ টাকার টিকেট কেটে ঢাকায় চলে আসুন। সন্ধা ৭ টার দিকে একটা ট্রেন আছে চট্রগ্রাম থেকে। ওটাতে করে আসার চেষ্টা করুন। রাতে বাসায় ফিরে ডিনার করুন। বাংলাদেশ এ ঢুকে ঢাকায় আসতে খরচ হল মাত্র ১৭০+৫০=২৩০।

এবার আসুন সর্বমোট খরচের হিসাবে।

সর্বমোট খরচ-২৬০+১২৫০+২৩০=১৭৪০ টাকা। খুজে দেখুন মানিব্যাগে আরো ২৬০ টাকা আছে। তবে একটু চা-নাসতা বেশি খেলেও এই ২০০০ টাকায় ই আপনার দুইদিনের বিদেশ ভ্রমন ডান।

Tourplacebd.com