তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয়, কাঞ্চনজঙ্ঘা অবলোকন

প্ল্যানটা চিন্তা করেছিলাম একদিনের করবো , দিনে দিনে গিয়ে কাঞ্চনঝঙ্গা দেখে ফিরে আসবো কিন্তু খোঁজ খবর নিয়ে দেখলাম সেটা সম্ভব নয় এবং হলে ও খুব বেশি ধকল হয়ে যায়ে । তাই প্ল্যান করলাম এক রাত দুই দিনের । প্ল্যান অনুযায়ী অনলাইন এ ১০ দিন আগে ৮ জনের টিকেট করলাম দ্রুতজান এক্সপ্রেস এর । যাওয়ার টিকেট কাঁটার পর পরই ডাকবাংলো তে রুম বুকিং দিলাম এবং একদিন পরে আবার রিটার্ন টিকেট করলাম একতা এক্সপ্রেস এর । এরপর দিন শুনলাম একজন যাবে না , যাইহোক প্ল্যান অনুযায়ী ৭ জন রওনা দিবো ঠিক করলাম .

৭ তারিখ – কমলাপুর এ গেলাম ৭ টার দিকে , নেমে ৬ নম্বর counter থেকে যাওয়া – আশা মিলায়ে ১৫ জন এর টিকেট collect করলাম । ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এ গিয়ে দাঁড়ালাম ৭ টা ৪৫ এর দিকে । কিন্তু ট্রেন এর দেখা নেই । ট্রেন আসলো ৯ টায়ে । ছাড়ল ৯ টা ৩০ এ । দেড় ঘণ্টা লেট ।

৮ তারিখ – দ্রুতজান এত এত station এ থামে এন্ড এতো লেট করে জানলে হয়তো বাস এর টিকেট নিতাম । প্রায়ে ১৪ ঘণ্টার ট্রেন জার্নির পর পঞ্চগড় নামলাম ১০ টা ৩০ এ । নেমেই station এর বাইরে থেকে একটা অটো নিয়ে বাঁজারে গেলাম । বাঁজারে নেমে ঢুকলাম “Dhaka Shahi Biriyani House ” এ । সকালের এন্ড দুপুরের খাবার মিলায়ে একসাথে পেত ভরে খিচুড়ি খেলাম । যারা পঞ্চগড় আসবেন এই দোকানের খিচুড়ি মাস্ট ট্রাই করবেন । এমন মজার খিচুড়ি লাইফ এ খুব কম এই খেয়েছি । বাজার এর একদম সাথেই দোকান । সহজেই খুজে পাওয়ার কথা । না পেলে ও ম্যাপ এ সার্চ দিলেই খুব্ব সহজেই পেয়ে যাবেন । খাওয়া শেষেই পুরা দিন এর জন্য অটো ভারা করলাম । Rocks meusium – মহারাজার ধিঘি – মির্জাপুর শাহী মসজিদ এবং অলি আউলিয়ার মাজার । এই ৪ টা স্পট ঘুরে যখন মৌচাক ( পঞ্চগড় বাস স্ট্যান্ড ) তখন বিকাল ৪ টা ৩০ । সেখান থেকে তেতুলিয়ায়র জন্য বাসে উঠলাম , তেতুলিয়া bus stand নামলাম সন্ধ্যা ৬ টা ১৫ তে । বাস স্ট্যান্ড থেকে ভ্যান এ করে গেলাম ডাক বাংলো তে । গিয়ে বুঝলাম , ডাক বাংলো – পিকনিক কর্নার – পিকনিক স্পট এইসব মিলায়েই একটা জায়গা । রাতের খাবার এর জন্য আবার ভ্যান এ করে বাজার এ আসলাম । রাতে খেলাম , বাংলা হোটেল এ ।

Image may contain: tree, plant, sky, house, outdoor and nature

৯ তারিখ – ভোঁর ৪ টার ৪৫ এর alarm এ ঘুম ভাঙ্গল । ব্রাশ করে ফ্রেশ হয়ে , ডাক বাংলো এর ভিতরেই view point এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম । তখন এ আকাশ ফর্সা হয় নাই । তারপরও সেখানে ৮-১০ জন এর মতো মানুষ already । সবাই আগ্রহ নিয়ে দাড়িয়ে আছি । ধীরে ধীরে আকাশ পরিষ্কার হতে লাগলো এবং মানুষের এর পরিমাণ বাড়তে লাগলো । ৫ টা ৪৫ এর মধ্যে প্রায়ে ৪০-৫০ জন এর মতো হয়ে গেলো । যায়গাটা একদম সীমান্ত ঘেঁষে । বলতে গেলে বাংলাদেশ এর শেষ সীমানা । যেখানে দাঁড়ায়ে দেখবেন , এর সামনেই মহানন্দা নদী । নদীর ওপার থেকেই ভারত শুরু । আকাশ ফর্সা হওয়ার পর খুব ধীরে ধীরে কিছুটা shape বুঝা যাচ্ছিলো । কিন্তু যখন সূর্যটা উঠার সাথে সাথে একদম ক্লিয়ার হয়ে উঠলো স্বপ্নের কাঞ্চনঝঙ্গা । কি যে সুন্দর তা সরাসরি না দেখলে বুঝা যাবে না । যত সূর্যের তাপ বাড়তে লাগলো আরও বেশি ক্লিয়ার হয়ে উঠলো । প্রায়ে ৭ টা পর্যন্ত কাঞ্চনঝঙ্গা দেখার পরে আবার ভ্যান নিয়ে গেলাম বাঁজারে । সকালের নাস্তা করলাম , নূর জাহান হোটেল এ । নাস্তা – চা খেয়ে আবার ডাক বাংলও তে ফিরে আসলাম ৮ টার দিকে । তারপর একে একে ফ্রেশ হয়ে ” আনন্দধারা রিসোর্ট এবং কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট ” এর জন্য ভ্যান ভাড়া করলাম । প্রথমে নামলাম , কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট এর ফ্যাক্টরি তে । জায়গাটা তেমন আহামরি কিছু না । সেখানে আমাদের পরিচিত একজন ছিল , তাঁর সাথে দেখা করে পরে গেলাম আনন্দধারা রিসোর্ট এ । পুরো রিসোর্টটা দেখার পর বলবো , Just wow একটা প্লেস । ঢাকা শহরে ও এমন সুন্দর রিসোর্ট দেখা যায়ে না । বিশাল বড় জায়গা নিয়ে বানানো । রিসোর্ট এর ভিতরেই , খোলা ঘোড়া ঘুরে বেরাচ্ছে । রিসোর্ট দেখার পর অটো নিয়ে গেলাম বাংলাবান্দা জিরো পয়েন্ট এ । জিরো পয়েন্ট এ কিছু সময়ে থেকে বাস এ করে৪ পঞ্চগড় এর উদ্দেশে রওনা দিলাম । পঞ্চগড় নামলাম বিকাল ৩ টায়ে । আবার গেলাম সেই , ঢাকা শাহী বিরিয়ানি হাউজ এ । আবার শেই খিচুরি । খাওয়া শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে অটো নিয়ে রেল স্টেশন এ গেলাম । তারপর শুধু ট্রেন এর অপেক্ষা । রিটার্ন টিকেট তো কাটাই ছিল একতা এক্সপ্রেস এর । একতা কোন লেট করলো না । একদম ঠিক ৯ টায়েই ট্রেন ছেড়ে দিলো । এভাবেই শেষ হল তেতুলিয়া থেকে হিমালয় দেখা ।

খরচ –

Drutojan Express – 550 Taka , Shovon Chair ( Per person )

Ekota Express – 550 Taka , Shovon Chair ( Per person )

Rail station – Panchagar bazar – 10 Taka ( Auto / Van )

Dhaka Shahi Biriyani House – খিচুরি হাফ প্লেট : 70 & Quarter : 30

Panchagar এ ৪ টা spot এর জন্য অটো – 600 Taka

Panchagar to Tetuliya ( Bus ) – 50 Taka

Tetuliya Bus Stand to Dakbunglow – 5 Taka ( Van )

ডাকবাংলো রুম ভাড়া – 700 Taka ( 1 room )

Dakbunglow to Kazi and Kazi tea estate and Anandadhara – 400 Taka ( Van )

Anandhadara to Zero point – 300 taka ( Auto )

Zero point to Panchagar Bus Stand – 70 Taka ( Bus )

এছাড়া , বাংলা হোটেল এ আমাদের ৭ জনের রাতের খাবার এর বিল হয়েছিলো ৭০০ টাকা এবং নূর জাহান হোটেল এ সকালের নাস্তার বিল ১৮০ টাকা । আমরা ৭ জনের টিম ছিলাম । টিকেট সহ আমাদের পার পারসন ২১০০ টাকা খরচ হয়েছে ।

জেনে রাখা উচিত :

১/ ট্রেন এর টিকেট এর প্রছুর চাপ থাকে যদি weekend হয় । তাই আগে আগে টিকেট কেটে রাখা ভালো ।

২/ Panchagar এর ৪ টা স্পট এর মধ্যে Rocks meusium এবং মির্জাপুর শাহী মসজিদ টা সুন্দর । বাকি গুলো মনে হয় না কারো ভালো লাগবে । Actually , এই ট্যুর টাতে কাঞ্চনঝঙ্গা টা দেখতে পারাই মেইন । বাকি স্পট নিয়ে খুব একতা expectation রাখবেন না । নাহলে পরে dissapoint হবেন ।

৩/ Tetuliya তে খাবার হোটেল , বাংলা হোটেল এবং নূর জাহান এই দুইটাই । চেষ্টা করবেন এই দুইটার মধ্যে যে কোন একটাতে খাওয়ার । অন্যগুলা তেম্ন ভালো না । Van / Auto মামা দেড় বললেই নিয়ে যাবে । এই দুইটা সবাই ছিনে ।

৪/ Kazi and Kazi Tea Estate & Andadhara resort দুইটাতে ঢুকতেই permission লাগে । চেষ্টা করবেন ঢাকা থেকে permission নিয়ে যেতে । আমাদের পরিচিত ছিল , তাই খুব easili permission পেয়েছি ।

৫/ ডাক বাংলো তে রুম যাওয়ার আগেই বুকিং দিয়ে যাবেন ।
৬/ জায়গাটা এখন ও বানিজ্জিক ছোঁওয়া পায়েনি । মানুষ জন খুবি সহজ সরল এবং আপ্যায়ন পরায়ক । যে কোন বিপদে লোকাল মানুষের হেল্প নিবেন । ভয় পাবেন না ।

ডাক বাংলো বুকিং – 01751026225 ( শাহিন ভাই )

লিখেছেন Shah Imtiaz‎

Tourplacebd.com