ঢাকা থেকে সাজেক ভ্রমণ মাত্র ৩০০০ টাকায়: ( থাকা,খাবার ও যাতায়াত সহ)

হঠাৎ করেই বন্ধুরা মিলে ঠিক করলাম সাজেক ঘুরতে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ।
৯ তারিখ রাতে শ্যামলী বাসে উঠলাম। বাস আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির দিকে যাচ্ছে। সকাল ৬ টার দিকে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বরে পৌঁছালাম। সেখানে সবাই ফ্রেশ হয়ে নিলাম।যার যার ইচ্ছামত সকালের খাবার খেয়ে নিলাম। এরপর আমাদের আগে থাকেই ঠিক করে রাখা চাঁদের গাড়ীতে উঠে পড়লাম।

Image result for সাজেক
প্রথমেই গেলাম আলুটিলা গুহায়। সেখানে যখন পৌঁছাই, দেখলাম আর কেউ নাই। তো সবাই ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ইচ্ছামত ছবি তুলে গুহার দিকে যাত্রা শুরু করলাম। ও হ্যাঁ, মশাল ও কিনে নিলাম। আমরা ৩ টা মশাল কিনছিলাম। মশাল হাতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গুহার মুখে গেলাম। প্রথমে কেউই ভিতরে যেতে রাজি হচ্ছিল না। কিন্তু পরে একে একে সবাই ভিতরে যাওয়া শুরু করলো। রাস্তাটা ভালোই ছিলো।রোমাঞ্চকর  গুহা পার হতে ১০-১৫ মিনিট লাগে। তারপর গেলাম বৌদ্ধ মন্দিরে। জুতা খুলে ঢুকতে হয়। সেখানে কিছু ছবি তুলে আবার গাড়ীতে ফিরে আসলাম। এরপর যাত্রা শুরু করলাম সেই প্রতীক্ষিত সাজেক ভ্যালীর উদ্দেশ্যে।

সাজেকে যাওয়ার রাস্তাটা এক কথায় অসাধারণ। বিশেষ করে বাঘাইহাট থেকে সাজেকে যাওয়ার রাস্তা। আঁকাবাঁকা-উচুঁ নিচু রাস্তা। কখনো মনে হচ্ছে আকাশে উঠে যাচ্ছি, আবার তার কিছুক্ষণ পরেই একদম নিচে নেমে যাচ্ছি। এই জার্নিটা মনে রাখার মত। তো এমনিভাবে যেতে যেতে ১২টার দিকে সাজেকে পৌঁছাই। সাজেকে পৌঁছে আমাদের আগে থেকেই ঠিক করে রাখা কটেজে(সারা লুসাই ২) উঠি। কটেজটা অনেক বেশি ভালো। রুমগুলো সুন্দর, গোছানো। আর এইখান থেকে অনেক ভালো ভিউ পাওয়া যায়। আমি এইটাই সাজেস্ট করবো। রুমে উঠে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার অর্ডার দেই শিউলী রেস্টুরেন্টে। এই হোটেলের খাবার ভালো। আমরা দুপুরে ভাত+ডাল+সবজি(এইটা অনেক টেস্টি ছিলো)+ ডিমভুনা খাই। খেয়ে রুমে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে আধা ঘন্টার একটা ছোট্ট ঘুম দিয়ে বেরিয়ে পড়ি হ্যালিপ্যাডের দিকে। হ্যালিপ্যাডে ফটোশূট করতে করতে সন্ধা হওয়ার পর সূর্যাস্ত দেখে, আশে পাশে ঘুরাফিরা করে, চা খেয়ে আসার পথে যেখানে দুপুরের খাবার খাইছিলাম, সেখানে রাতের খাবারের অর্ডার দিয়ে আসি। রুমে এসে আড্ডা দিয়ে ৯টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে আসি। রুমে এসেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ি।

পরের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠি। ঘুম থেকে উঠেই চোখটা জুড়িয়ে গেলো সূর্যোদয় দেখে। দেখার সময় শুধু একটা কথাই মনে হবে, “এরকম সূর্যোদয় কেনো সবসময় দেখি না?” সূর্যোদয়ের দৃশ্য এত সুন্দর যে, মুহূর্তেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। এরপর ৭:৩০ এর দিকে কংলাক পাহাড়ে উদ্দেশ্য রওনা দেই। কংলাক পাহাড়ে ছবি তুলে সকালের নাস্তা খেয়ে নিই। রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে ১০:৩০ টার দিকে চাঁদের গাড়ীতে করে রওনা দেই খাগড়াছড়ির দিকে। আসার পথে হাজাছড়া ঝর্ণা দেখি। এরপর খাগড়াছড়ি শহরে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই। খাবার খেয়ে ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে যাই।সেখান থেকে আসার সময় মেলায়(বিজয় মেলা হচ্ছিল) ঘুরাঘুরি-কেনাকাটা করে বাসস্ট্যান্ডে আসি। পরে রাতের বাসে করে ঢাকা ফিরে আসি।

Image result for সাজেক

এখন আসি খরচের ব্যাপারে:
ঢাকা-খাগড়াছড়ি(যাওয়া+আসা): ৫২০+৫২০ = ১০৪০
চাঁদের গাড়ী: ৮৮০০/১২( ভাড়া ৮৫০০+গাড়ী পার্কিং ১০০+ বখশিস ২০০) = ৭৩৩
আলুটিলা গুহায় টিকেট: ২০
মশাল: ১০
সাজেকে টিকেট: ২০
গাড়ী পার্কিং: ৮ (১০০/১২)
কটেজ ভাড়া: ৬৩৩
দুপুরের খাবার: ১০০
রাতের খাবার: ১৭০(ভাত+ডাল+সবজি+ব্যাম্বো চিকেন)
ঝালমুড়ি : ১০
বিকালের চা: ১০
সকালের নাস্তা: ৪৫
সকালের চা: ১০
কংলাক পাহাড়ে(বাঁশ) : ১০
দুপুরের খাবার(খাগড়াছড়িতে): ৬০ (ভাত+টেংরা মাছ+লইট্টা মাছ+ডাল) এইটা আমরা শেয়ারে খাইছিলাম 
ঝুলন্ত ব্রিজে টিকেট: ২০
মোট খরচ : ২৮৯৯
এছাড়া আরো হালকা কিছু নিজের খরচ হয়েছে। তাই এগুলো দেয়া হয়নি।

2 Comments
  1. Vai…সাজেকে কোথায় থেকে ছিলেন এবং খেয়েছিলেন?
    ২. মুহুরীগঞ্জ থেকে কি সাজেকে যাওয়ার বাস সবসময় পাওয়া যায়?

  2. আর দীঘীনালা থেকে সাজেক যাওয়ার মধ্যমের বিস্তারিত একটু বলেন, মানে কিভাবে গিয়েছিলেন।

Leave a reply

Tourplacebd.com