চর কুকরী মুকরী, চরফ্যাশন, ভোলা

ঘুরে এলাম বাংলাদেশের দক্ষিণের প্রায় শেষপ্রান্ত চর কুকরী মুকরী থেকে।এটি মূলত ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার অন্তর্গত একটি ইউনিয়ন যা বঙ্গোপসাগরের দ্বারপ্রান্তে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত।অনেকেই একে দ্বিতীয় সুন্দরবন নামে ডাকছেন।কারণটা গিয়েই বুঝলাম।ভার্সিটি বন্ধুরা মিলে চলে গেলাম নতুন অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে।বাংলাদেশের প্রতি পরতে পরতে সৌন্দর্য্য।তার মধ্যে কিছু সৌন্দর্য্য আছে আপনার খুঁজে নিতে হবে।চর কুকরী মুকরীও তেমনই একটা জায়গা।নারিকেল বাগানে আছে এক ঘন জঙ্গল আর সাথে সুন্দর একটি সি বিচ।আর রাস্তাটি হল মাঝখানে খাল,দুইদিকে ম্যানগ্রোভ বন।সী বিচ তো লাইফে অনেক দেখেছেন।কিন্তু নদী গিয়ে সাগরে মিশে যাচ্ছে এমন একটি দৃশ্য সংবলিত সী বিচ নিশ্চয়ই দেখেননি।আরো আছে এক্কেবারে তাজা ইলিশ মাছ যা খেলে মুখে স্বাদ লেগে থাকবে সারাজীবন।আর ওখানকার মানুষ অনেক অনেক হেল্পফুল।কোন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবেন না।আর হ্যাঁ,বারবিকিউ করতে ভুলবেন না কিন্তু।

Image may contain: ocean, sky, cloud, outdoor, water and nature



কিভাবে যাবেন- আমরা ভার্সিটি(বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে গিয়েছিলাম।তবে ঢাকা থেকে যাবার বিস্তারিত উপায় আমি বলছি।ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাত ৮ টা ৩০ এ তাসরিফ ৩/৪ লঞ্চ ছেড়ে যায় চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে।আমার বাসা ঢাকায়।যারা লঞ্চ সম্পর্কে টুকটাক জানেন তারা হয়তো জানবেন তাসরিফ বর্তমানে উক্ত রুটের সুপারস্টার লঞ্চ। সকালে চরফ্যাশন পৌঁছে বাসযোগে চলে যাবেন দক্ষিণ আইচা।সেখানে থেকে কচ্ছপিয়া ঘাট।ঘাট থেকে চাইলে খেয়ায়(ছোট লঞ্চ)যেতে পারেন কুকরী মুকরী।কিংবা স্পীড বোট রিজার্ভ করেও যেতে পারেন।খেয়া ছাড়ে দুপুর ১২ টা ৩০ এ আর বিকেল ৪ টা ৩০ এ।ভাড়া ৪০ টাকা।স্পীড বোট রিজার্ভ নিলে ১০০০/১২০০ টাকা লাগবে।একটা স্পীডবোটে ৮/১০ জন যেতে পারবেন।ব্যাক করার সময় সেইম রুটে ব্যাক করবেন।কুকরী মুকরী থেকে খেয়া সকাল ৯ টা ও দুপুর ২.৩০ এ।আর চরফ্যাশন থেকে বিকালে ঢাকার লঞ্চ ছেড়ে যায়।তাই অবশ্যই সকালের খেয়ায় ব্যাক করার ট্রাই করবেন।


কোথায় থাকবেন- চর কুকরী মুকরীতে থ্রি স্টার মানের বিশাল এরিয়া,সুইমিংপুলসহ একটি সরকারী রেস্ট হাউজ রয়েছে।থাকতে হলে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।রুম প্রতি ভাড়া ২০০০ টাকা।খুবই আরামে ও আধুনিক সুযোগ সুবিধায় থাকতে পারবেন।

কি কি খাবেন- চর কুকরী মুকরী তে মোটামুটি বড় একটি বাজার আছে।খাবার হোটেল ও আছে।পছন্দমত বাজার করে হোটেলে দিয়ে দিলে তারা আপনাকে সুন্দর করে রান্না করে দেবে।আন্তরিকতার অভাব পাবেন না।তাজা ইলিশ আর কাঁকড়া কিন্তু স্পেশাল।দামও অনেক কম।

Image may contain: tree, sky, plant, outdoor, nature and water


কি কি দেখবেন-রেস্ট হাউজের আঙিনায় কিছু সময় অবশ্যই কাটাতে মন চাইবে।বিকেলের দিকে চলে যাবেন নারিকেল বাগানে, ম্যানগ্রোভ বন আর বিচ দেখতে।নারিকেল বাগান যেতে হলে কুকরী মুকরী বাজার থেকে ১৫ মিনিট হেঁটে চলে যাবেন ডাকাইত্তার ঘাট।ওখান থেকে ৫০০/৭০০ টাকায় বোট ভাড়া করে যেতে হয়।অবশ্যই যাবেন।
চরফ্যাশন হয়ে কুকরী মুকরী যাওয়া বা আসার সময় ঘুরে আসবেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ ওয়াচ টাওয়ার “জ্যাকব টাওয়ার’ থেকে।

দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।

সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

73026431_499309080801214_5121852103681114112_n
74615407_604237516988756_3060769724364226560_n

We will be happy to hear your thoughts

Leave a reply

Tourplacebd.com